বাংলাদেশের পিরোজপুরে উৎপাদিত সুপারি দখল করছে ভারতীয় বাজার | The Daily Time News

বাংলাদেশের পিরোজপুরে উৎপাদিত সুপারি দখল করছে ভারতীয় বাজার

লেখক: মাহমুদুল হাসান পাপ্পু | পিরোজপুর প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ৮ নভেম্বর ২০২৫
পিরোজপুর সুপারি বাজার - রপ্তানির জন্য সজ্জিত সুপারি

পিরোজপুরের বিভিন্ন উপজেলার সুপারি (বেটেল নাট) এবার ঘাতকদের চাহিদা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও জায়গা করে নিচ্ছে — বিশেষত ভারতের কিছু সীমান্তবর্তী পাইকারি মার্কেটে পিরোজপুরের সুপারি পাঠানো হচ্ছে নিয়মিতভাবে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, এ অঞ্চলের মাটির বৈশিষ্ট্য ও তাপমাত্রা সুপারির গুণগত মান বাড়াতে সহায়তা করছে, ফলে ভারতীয় ক্রেতাদের কাছে পিরোজপুরের সুপারির চাহিদা বাড়ছে।

কৃষক ও পার্শ্ববর্তী পাইকাররা বলছেন, চলতি মৌসুমে পিরোজপুরে সুপারির ফলন আশানুরূপ। পাইকারি ক্রেতারা বড় অর্ডার নিচ্ছেন এবং কিছু অংশ ভারতের বাজারে রফতানি করা হচ্ছে — ফলস্বরূপ স্থানীয় বাজারে দাম তুলনামূলক ভাল অবস্থায় রয়েছে যা কৃষকদের আয় বাড়াতে সহায়ক হচ্ছে।

কাউখালী, পৌর ও সদর উপজেলার কয়েকটি বড় হাটের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, প্রতি সপ্তাহে হাজার হাজার কেজি সুপারি লেনদেন হচ্ছে এবং ভারতে পাঠানোর জন্য ধারাবাহিক সাপ্লাই চেইন তৈরি হচ্ছে — এতে করে পিরোজপুরের সুপারি বাগানগুলোতে বিনিয়োগও বেড়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তারা বলেন, যদি রপ্তানি নিয়ম ও মান নিয়ন্ত্রণ আরও সুগঠিত করা যায় এবং সরকার/রপ্তানিকর সংস্থাগুলো প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা দেয়, তাহলে পিরোজপুর থেকে সুপারি রপ্তানির পরিমাণ আগামী কয়েক বছরে ব্যাপকভাবে বাড়াতে সক্ষম হবে — এতে স্থানীয় কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ও সম্ভব।

তবে এক ঝুঁকিও আছে — বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ হলে মূল্য কমে যেতে পারে এবং সঠিক মান নিয়ন্ত্রণ ছাড়া পাইকাররা মানের সাথে আপস করলে পিরোজপুরের খ্যাতি বাজেয়াপ্ত হতে পারে। তাই ব্যবসায়ী ও কৃষি বিশেষজ্ঞরা গুণগতমান বজায় রাখার পাশাপাশি নিয়মিত বাজার বিশ্লেষণ ও রপ্তানি নীতির প্রয়োজনীয়তা জোরদার করার পরামর্শ দিচ্ছেন।

সংক্ষেপে: পিরোজপুরের সুপারি বদলে দিচ্ছে জেলা অর্থনীতিকে — স্থানীয় হাটগুলোতে কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে এবং ভারতের বিশেষ অংশে রপ্তানি হয়ে দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্ত করেছে।