ঘন ভূমিকম্প: কেয়ামতের আগমনী বার্তা?
লেখক: মাহমুদুল হাসান পাপ্পু | পোর্টাল: The Daily Time News
বিশ্বজুড়ে সম্প্রতি একের পর এক ভূমিকম্পে কেঁপে উঠছে পৃথিবী। এশিয়া, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য থেকে দক্ষিণ আমেরিকা—বিগত কয়েক মাসে ভূমিকম্পের হার বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ বাড়ছে। মাঝারি থেকে শক্তিশালী মাত্রার এসব কম্পনে বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত, সড়ক ধসে পড়া এবং জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
অনেকেই এই ঘনঘন ভূমিকম্পকে শুধুই প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে দেখছেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে নানা আলোচনা—এগুলো কি কেয়ামতের আগমনী সংকেত? ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী অনেকের ধারণা, পৃথিবীর শেষ সময় ঘনিয়ে আসছে এবং এসব বিপর্যয় সেই সতর্কবার্তার অংশ।
ইসলামি বিশ্লেষকদের মতে, হাদীসের বিভিন্ন বর্ণনায় কেয়ামতের পূর্বে পৃথিবীতে বিপর্যয়, ভূমিকম্প ও অস্থিরতা বাড়বে বলে উল্লেখ রয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো অনেকের মনে প্রশ্ন তুলেছে।
অন্যদিকে বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীর টেকটোনিক প্লেটের স্বাভাবিক সঞ্চালনের ফলেই এসব ভূমিকম্প হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন, ভূগর্ভস্থ চাপ, আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তা ও খনন কার্যক্রমেরও ভূমিকা রয়েছে। তাঁদের মতে, “ভূমিকম্পের সাথে কেয়ামতের সরাসরি সম্পর্ক বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়।”
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—গুজব ও আতঙ্ক ছড়িয়ে না দিয়ে সবাইকে সতর্ক ও প্রস্তুত থাকতে হবে। ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিরাপদ ভবন নির্মাণ, জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা এবং সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা ধর্মীয় ইঙ্গিত যাই হোক—মানব জীবনের সুরক্ষাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


0 Comments